Home
অপরাধ অনলাইন জুয়ার প্রতারণার ব্যবসায় কোটিপতি আক্তার হোসেন
অনলাইন জুয়ার প্রতারণার ব্যবসায় কোটিপতি আক্তার হোসেন
গড়ে তুলেছেন সন্ত্রাসী গ্রুপ
বোনাসের ফাঁদে নিঃস্ব হচ্ছে গ্রাহক
প্রতিবেদককে প্রাণনাশের হুমকি
রাহুল রাজ ।। অনলাইন জুয়ার রকমারি বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে অনেকে। রাতারাতি ধনী হওয়ার আশায় অনেকে এসব জুয়ার সাইটে নিবন্ধন করে হচ্ছেন প্রতারিত। এসব জুয়ার সাইটে কারো ভাগ্য না ঘুরলেও এসব অনলাইন জুয়ার ব্যবসা শুরু করে অনেকেই রাতারাতি আঙ্গুল খুলে কলা গাছ হয়ে গেছেন।
তেমনি একজন হলেন আক্তার হোসেন। মাত্র কয়েক বছর আগেও মগবাজারে চায়ের দোকান করে সংসার চালাতেন। কিন্তু কোন প্রকারের অনুমতি ব্যতীত অনলাইন জুয়ার ব্যাবসা শুরু করে মাত্র কয়েক বছরে বনে গেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক।
বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রকমারি বিজ্ঞাপন ও আকর্ষণীয় বোনাসের প্রলোভন দেখিয়ে ক্রেতাদের আকর্ষণ করে থাকেন। এরপরে এসব সাইটে টাকা বিনিয়োগ করলে মুহূর্তেই খোয়া যায় সেসব টাকা। বিভিন্ন বোনাসের অফার থাকলেও সেসব টাকা হাতে পেতে আরো টাকা বিনিয়োগ করা প্রস্তাব দেওয়া হয়।
আক্তার হোসেন সারা বাংলাদেশে গড়ে তুলেছেন জুয়ার এজেন্ট। লাইভ ক্যাসিনো থেকে শুরু করে বিভিন্ন গেমের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকা। ক্রিকেট ব্যাটিং, স্পট ফিক্সিং ম্যাচ পাতানো সহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে নাম রয়েছে তার।
আক্তার হোসেনের অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ে ইতোমধ্যে নিঃস্ব হয়েছেন অনেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, আমি অনলাইন থেকে ১. https://bet365all.live/
২. https://lgbet.live/ বেটিং সাইটের বিজ্ঞাপন দেখে সেখানে নিবন্ধন করি।
আমি যত বার যত টাকা বিনিয়োগ করেছে সবই আমার খোয়া গেছে। আমার মতন অনেকেই এই সাইটে নিবন্ধন করে নিঃস্ব হয়েছেন। মানুষকে বিভ্রান্ত করতে বিভিন্ন দেশের নাম্বার ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে আক্তার হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বিশেষ কায়দায় ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হয়ে একপর্যায়ে আক্তার হোসেনের ক্যাডার আলীকে দিয়ে জীবন নাশের হুমকি ও অশ্লীল ভাষায় গালাগালি দিতে থাকেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় এই আলী কয়েক মাস আগে অস্ত্রসহ আটক হয়ে ৭ মাস জেল খেটে জামিনে বেরিয়ে এসেছেন। তাদের বিরুদ্ধে নিউজ প্রকাশ করলে এর প্রতিবেদককে ২৪ ঘন্টার ভিতরে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। আলী দৃঢ় কন্ঠে হুমকি দেন তাদেরকে সব কর্মকাণ্ডের সংবাদ প্রকাশ করার সাহস কে দিয়েছে।
অভিযোগ আছে আখতার হোসেন সারাদেশে অসংখ্য জুয়ার সাইট, লাইভ ক্যাসিনো, সীসার বারে বিনিয়োগ করেছেন। গড়ে তুলেছেন সন্ত্রাসী বাহিনী। আখতার হোসেনের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কেউ কোনো পদক্ষেপ নিতে চাইলে তার উপরে নেমে আসে সন্ত্রাসী তাৎপরতা।
এসব সাইটে প্রথমে কয়েকবার গ্রাহককে ইচ্ছা করেই জিতিয়ে দেওয়া হয়। এমন করে ১১ থেকে ১৬ বার পর্যন্ত গ্রাহক তার টাকা বিনিয়োগ করে কিছুটা লাভে থাকেন। এরপরেই শুরু হয় তাদের আসল কর্মকাণ্ড।
খেলার নিয়ন্ত্রণ চলে যায় অপর প্রান্তে থাকা গেমারদের হাতে। যেকোনো বেটিংয়ে নিশ্চিত হারের মুখ দেখে গ্রাহক। এক সময় হারানো টাকা ফিরে পেতে আবার টাকা বিনিয়োগ করেন। প্রতিবারই চলতে থাকে এমন কর্মকান্ড।
এছাড়াও অনেক সময় এজেন্ডরাই ডিপোজিটের টাকা পুরোটা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। বৈধ কোন সাইট না হওয়ায় ভুক্তভোগীরা আইনের শরণাপন্ন হতে পারেন না।
এজেন্টের নির্ধারিত নাম্বারে বারে বারে ফোন দিলেও কোন সাড়া পাওয়া যায় না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিওর মাঝে প্রচার হয় এসব প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন।
চটকদারি ও চিত্তাকর্ষক বিজ্ঞাপনের ক্লিক করলেই খুলে যায় নির্ধারিত ওয়েবসাইট সেখানে নিবন্ধন করতে খুব বেশি বেগ পেতে হয় না আগ্রহী গ্রাহকদের। সামাজিক মাধ্যমের লোভনীয় বিজ্ঞাপনের লিংকগুলোয় ক্লিক করলে নিয়ে যাচ্ছে, বেট৩৬৫, লেগ বেট, ক্রিকিয়া, জিতবাজ, বাবু ৮৮, বাজি, সিক্স৬ বিডি, সিক্স৬এসবিডিটি অনলাইনের মতো জুয়ার সাইটে। চলতি বছরের শুরুতে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল দেশে অন্তত ৫০ লাখ মানুষ অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত।
এখন দেখার বিষয় আক্তার হোসেন এর হাত বড় না কি আইনের।
Post Views:
২৮